দেখা হলে আমার মনও চঞ্চল হয়ে ওঠে…

আবুল খায়ের

দিন দিন সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। ছুটে যাচ্ছে সেই ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ। সুযোগ হয়ে উঠছেনা আর আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানো। অথচ কর্মজীবনে দিন দিন আপন হয়ে ওঠে সহকর্মীরা। মুলত কর্মজীবনের সহকর্মীরাই হচ্ছে আত্মার আত্মীয়, পরম স্বজন। যারা কখনই পর হয় না। জীবনের বাকিটা সময় আপন হয়ে কাছে থাকে সহকর্মীরা। 

তারপরও কি এই আপন মানুষদের সঙ্গে প্রতিদিন সবার দেখা হচ্ছে ? হচ্ছে না। তাতে কি কেউ কারো পর হয়ে পড়ছে? কেউ পর হয়ে উঠছে না। কর্মজীবনে সহকর্মীদের সঙ্গে এ এক অদ্ভুত মধুর সম্পর্ক। কারণ সহকর্মীরা তাদের কর্মের মধ্যে দিয়েই সবাই সবার মনে গেথে থাকে। যে কোন প্রয়োজনে সবার আগে পাশে দাঁড়াই। আর, প্রফেশনাল সংবাদকর্মীদের পক্ষে অফিস সহকর্মীর বাইরে প্রতিদিন অন্য সবার সাথে দেখা করার ভাগ্যটা খুবই ক্ষীণ। কারন কখন কার এসাইনমেন্ট কোথায়? কখন কার অফিস কি দায়িত্ব দিচ্ছে? তার কোন ইয়ত্তা নেই। আমিও একজন প্রফেশনাল সংবাদকর্মী। আমারও সবার মত প্রতিদিন সবার সাথে দেখার হবার ভাগ্যটা নেই। 

তার মানে এই নয় যে আমি আমার সহকর্মী ও আত্মীয়দের ভুলে যাবো। আমি আর সবার মতই সবাইকে আপন ভাবি। কোন সহকর্মীর সঙ্গে দেখা হলে আমার মনও চঞ্চল হয়ে ওঠে। কারো কোন বিপদের খবর পেলে আমিও আর সবার মত ঝাপিয়ে পড়ি তাকে উদ্ধার করতে। হয়তো দেখা গেছে যার সঙ্গে এক দেড় বছর দেখা নেই, তার এক খবরে ছুটে গেছি হাসপাতালে, অথবা তার কোন বিপদের ছুটে গিয়ে দাড়িয়েছি তার পরিবারের পাশে। 

আমি ভাবি, কারো পাশে দাঁড়ানোটাই যেন আত্মার আত্মীয়তার ঋণ শোধ করা। ভালোবাসার প্রতিদান প্রকাশ করা। হয়তো সবার খোঁজ নেবার মত একটা দায়িত্ব আমার কাঁধে আসলে আরো বেশি সবার বিপদে আপদে পাশে থাকতে পারবো। আমিতো আপনাদের পাশে থাকতে চাই সব সময়ই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.