অনুসন্ধান এবং অনুমান


হারুন উর রশীদ

অনুমানকে আমরা ধারণাও বলতে পারি। বলতে পারি সন্দেহ। পারিবারিক জীবনে সন্দেহ হয়তো নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। কারুর সংসার আমি না চাইলেও সন্দেহের কারণে ভাঙতে পারে। কিন্তু অনুসন্ধান-এর প্রথম শর্ত হলো সন্দেহ। তাই কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিক তার ব্যক্তিগত বা পাবিারিক জীবনে এই সন্দেহটা দূরে সরিয়ে রাখবেন আশা করি।

সন্দেহ বা অনুমান কাল্পনিক কোনো বিষয় নয় সাংবাদিকের জন্য। পাশের বাড়ির ঘটনা দেখে নিজের বাড়ি নিয়ে সন্দেহ করা যায়। করেনও অনেকে। কিন্তু সাংবাদিকতায় সেটা যায়না। সাংবাদিকের সন্দেহের একটি বৈজ্ঞানিক বা যৌক্তিক ভিত্তি থাকবে। তার মানে হল একজন অনুসন্ধানি সাংবাদিক যখন সন্দেহ শুরু করেন তখন নিশ্চয়ই সন্দেহ করার মত প্রাথমিক তথ্য তার কাছে থাকবে। তাই তার সন্দেহ অমূলক হবেনা। সন্দেহের ভিত্তি থাকবে।

এবার একটি উদাহরণ দিই। এফ আর টাওয়ারে আগুনের পর গণপুর্ত মন্ত্রনালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু কমিটি কাজ শুরু করেছে ওই ভবনের নকশা এবং নথি ছাড়াই। কারণ রাজউক বলছে তারা ভবনের নকশা ও নথি হারিয়ে ফেলেছে। এটা একটা খবর। শিরোনাম হতে পারে ‘এফআর টাওয়ারের নথি হারিয়ে ফেলেছে রাজউক’। কিন্তু একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের জন্য এটা সন্দেহ তৈরি করবে। তিনি এটাকে ইননোসেন্টলি একটা স্বাভাবিক ঘটনা মনে করবেন না। এই সন্দেহ বা অনুমান থেকে তার মনে কতগুলো প্রশ্ন তৈরি হবে। যা সন্দেহের মাধ্যমে একটি নতুন ধারণা তাকে দেবে।

কি ধরণের প্রশ্ন মনে জাগতে পারে-
১.নথি কি অবহেলায় হারিয়ে গেল, না সরিয়ে ফেলা হয়েছে?
২. যদি সরিয়ে ফেলা হয় তবে তার কারণ কি?
৩.যারা সরিয়ে ফেলেছেন তারা কারা?
৪. যারা সরিয়েছেন তাদের স্বার্থ কী?
আরো প্রশ্ন আছে। তবে এখানে এই ৪টি প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকি। যদি প্রথম প্রশ্নের উত্তর হয় ‘সরিয়ে ফেলা হয়েছে’ তাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকের এখানে অনেক বড় অনুসন্ধানের বিষয় আছে। আর সেই অনুসন্ধানে পরের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করতে হবে। আমি তার আগে আরেকটি কথা বলতে চাই। রাজউক নথি গায়েব করে ফেললেও এর ছায়া নথি কেথাও না কোথাও থাকবে। তা থাকতে পারে ভবন মালিকের কাছে। ডেভেলপারের কাছে অথবা অন্য কারুর কাছে। সাংবাদিকের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকতে হবে তা হাতে নেয়ার।


এই অনুসন্ধানে কী পাওয়া যেতে পারে?
অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত কি পাওয়া যাবে তা অনুসন্ধান শেষ হলেই কেবল বলা সম্ভব। কারণ সন্দেহ বা তথ্যভিত্তিক অনুমানের ওপরই অনুসন্ধান শুরু হয়। তবে এই অনুসন্ধানে রাজউকের একটা চক্রের খোঁজ হয়তো পাওয়া যেতে পারে। জানা যেতে পারে তারা কিভাবে কি উপায়ে কত টাকায় ভবনের অনুমোদন দেয়। নিয়ম নীতি কিভাবে ভাঙা হয়। তারপর প্রমাণ মুছে ফেলতে কিভাবে নথি সরিয়ে ফেলে তারা। তবে এখানেই শেষ না করা ভালো। ওই কর্মকর্তাদের সম্পদ ও ব্যাংক একাউন্টেরও অনুসন্ধান করে নতুন মাত্রা যোগ করা সম্ভব। তবে এটা অল্প সময়ে করা হয়তো যাবেনা। লেগে থাকতে হবে। আবার এটাও হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে যে ‘রাজউকের ভবন নির্মানের ৭০ ভাগ নথিই গায়েব’।

আমি যা ভাবি তা নাও হতে পারে:
অনুসন্ধানে মৌলবাদের কোনো জায়গা নেই। আমি যা সন্দেহ করি বা ধারণা করি শেষ পর্যন্ত তা নাও হতে পারে। আবার আমি যতটুকু ধারণা করি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে। কোঁচো খুড়তে বেরিয়ে পড়তে পারে সাপ। আমার তথ্যের ঠিক বিপরীত ঘটনাও বের হয়ে আসতে পারে। যা পাওয়া যাবে সেটাই মেনে নিতে হবে প্রতিবেদককে। আমার মত করে হতে হবে এই চিন্তা প্রতিবেদককে ছাড়তে হবে।


আমি তখন সংবাদ-এর ক্রাইম রিপোর্টার। বুলবুল ভাই (মনজুরুল আহসান বুলবুল) তখন আমাদের বার্তা সম্পাদক। আমাকে একদিন বললেন ধানমন্ডিতে এক তরুন ব্যবসায়ী অপহৃত হয়েছেন। সম্ভবতঃ মুক্তিপনের দাবীতে। আমাকে বিষয়টি দেখতে বললেন তিনি। ধানমন্ডিতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলি। নানা তথ্য নেই। তাদের কথামত শক্তিশালী গ্যাং এই অপহরণের নেপথ্যে আছে। থানায়ও সেভাবে মামলা হয়েছে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা একটু কম লক্ষ্য করলাম। আর থানায় যাবো বললে তারা এজাহারের কপি দিয়ে থানায় যেতে নিরুৎসাহিত করেন। আমার সন্দেহ হয়। কিন্তু সেটা যে কী হতে পারে তা বুঝতে পারছিলাম না। মনে এক ধরণের খুঁত খুঁত রয়েই গেল। 
তারপর পর সন্দেহ থেকে আরো একটু খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানতে পারলাম আসল ঘটনা। ওই ব্যক্তির নাম ছিল পাপ্পু। প্রকাশ্যে তিনি মটর গাড়ির ব্যবসা করেন। কিন্তু তার আসল ব্যবসা প্রতারণা। তিনি অনেকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ব্যবসাসহ নানা কথা বলে নিয়ে আর ফেরত দেননি। চাপে পড়ে একই তারিখে তিনি কয়েক কোটি টাকার চেক দেন তাদের। ওই তারিখের আগের রাতে তিনি ‘অপহৃত’ হন। আসামি করা হয় পাওনাদারদেই। আর সংবাদ-এ তখন খবরের শিরোনাম হয় ‘নিখোঁজ নয়, অপহরণ নয়, বহুলোকের টাকা মেরে গা ঢাকা দিয়েছেন পাপ্পু’।


ঝুঁকি এবং ঝুঁকি মোকাবেলা :
অনুসন্ধান সব সময়ই ঝুঁিকর কাজ। কারণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সাধারণভাবেই যাদের বিপক্ষে যায় তারা ক্ষমতাবান। এই ক্ষমতাবানরা আপনাকে অনুসন্ধানের যেকোনো পর্যায়ে থামিয়ে দিতে চাইবে। আপনাকে নানাভাবে ফাঁদেও ফেলতে চাইবে। এজন্য ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল জানতে হবে। তবে সবার আগে আপনার সততা এবং বস্তুনিষ্ঠতা আপনাকে অনেকখানি রক্ষা করবে। তারপর আপনার নানা কৌশল।


কিছু সাধারণ নীতি মানতে হবে। তারপর পরিস্থিতি বুঝে আপনাকে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। যার বিরুদ্ধে আপনার প্রতিবেদন যাবে তিনি কথা বলতে চাইবেন। আর আপনার কাজও হচ্ছে তার বক্তব্য নেয়া। যদি তার কর্মস্থলে কথা বলেন তাহলে অফিসকে জানিয়ে যাবেন। আর তার কর্মস্থলে পৌঁছে তার সামনেই ফোনে একবার অফিসের সঙ্গে কথা বলে জানিয়ে দেবেন কোন কাজে কোথাায় কার অফিসে আছেন। সম্ভব হলে যে পথে সাধারণভাবে যাওয়া যায় সেই পথে না গিয়ে আলাদা পথ ব্যবহার করবেন। এর বাইরে আপনি আপনার অফিসেও তাকে ডাকতে পারেন। কিন্তু তৃতীয় কোনো জায়গায় না দেখা করাই ভালো।


আপনিও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে পারেন:
আজকাল মেবাইল ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরার যুগ। সাংবাদিকরা যেমন এগুলো কাজে লাগান অপরাধীরাও এগুলো কাজে লাগাতে জানেন। ফলে আপনি নিজেও ব্ল্যাক মেইলের শিকার হতে পারেন। তাই সাবধান থাাকতে হবে। সঙ্গে একজন সহকর্মী সঙ্গে থাকলে ভালো হয়। টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গেতো ক্যামেরা পার্সন ও ক্যামেরা এসিসট্যান্ট থাকেন।


্আপনি যদি কোনো ডকুমেন্ট যা টেক্সট, ভিডিও বা অডিও সঙ্গে নিয়ে যান তার সামনে তার কৃতকর্ম সরাসরি দেখাবেবন বলে, তাহলে সাবধান থাকবেন। এগুলো সাধারণ বিবেচনায় না নেয়াই ভালো। কারণ তিনি যদি মনে করেন ধরা পড়ে গেছেন তাহলে নিজে বাঁচার জন্য চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন। তবে যদি একান্তই নেয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে প্রতিটি ডকুমেন্টের কপি সংরক্ষণে রেখে যাবেন। কারণ অপরাধী আপনার কাছ থেকে ডকুমেন্টের কপি যেকোনো উপায়ে কেড়ে নিতে চাইতে পারেন।


এরকম ঝুঁকি মোকাবেলার আরো অনেক কৌশলের উদাহরণ দেয়া যায়। তবে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে থ্রেট এ্যাসেসমেন্ট জরুরি। কী ধরণের ঝুঁকি আসতে পারে তার একটা হিসেব আগে করে নেয়াই ভালো। আর অনুসন্ধান শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হবে। নয়তো আপনার শ্রম পন্ডশ্রমে পরিণত হতে পারে। উল্টো আপনার বিপদ হতে পারে। তবে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হলে আলাদা কথা। 
আর যে কথাটি আমি বলতে চাই তাহালো নিজের জীবন এবং পরিবারকে বিপন্ন হওয়ার মত ঝুঁকি নেয়ার প্রয়োজন নেই। জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই।


আইন মাথায় রেখে কাজ করুন:
সাংবাদিককে দেশের প্রচলিত আইন মেনে কাজ করতে হয়। তাই দেশের প্রচলিত আইন সম্পর্কে বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রেখে যেকেনো অনুসন্ধানে নামা উচিত। সাংবাদিক পুলিশ নয়। পুলিশকে আইনে ক্ষমতা দেয়া আছে যার মাধ্যমে সে প্রয়োজন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। কিন্তু সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহ করতে হয় কৌশলে। আর এই তথ্য সংগ্রহেও তার নানা আইনি বাধা আছে। অনেক সময় তথ্য পাওয়া গেলেও আইন তা প্রকাশে বাধা দেয়। তথ্য অধিকার আইন থাকলেও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সেখানে বাধা হয়ে আছে। আছে প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স আইন। আছে সম্প্রচার নীতিমালা। তবে এসব আইনের বাধার মধ্য দিয়েই অনুসন্ধানী সাংবাদিককে এগিয়ে যেতে হবে। হাত পা গুটিয়েতো আর বসে থাকলে চলবেনা। সতর্ক থাকতে হবে। কৌশলী হতে হবে।


এমনও হতে পারে যে আপনি কোনো একটি দপ্তরের দুর্নীতির গোপন নথি জোগাড় করে ফেললেন। কিন্তু দেখা গেল সেখানে যিনি আপনাকে তথ্য দিয়েছেন তিনি আইনের আওতায় পড়ে যেতে পারেন। আবার আপনি নিজেও পড়তে পারেন। তাহলে কী করবেন? হয়তো কপিটি দুদককে দিয়ে দিতে পারেন। আর দুদক ওই তথ্যগুলো আমলে নিলে আপনি দুদক সূত্রেই কাজ শুরু করতে পারেন। এটা একটা কৌশলের কথা বললাম। আরো অনেক কৌশল হতে পারে।


ভাষাগত কৌশল :
ভাষাগত কৌশলও আপনাকে আইনের নানা ধকল থেকে বাঁচিয়ে দেবে। আমি তখন একুশে টেলিভিশনে প্ল্যানিং এডিটর হিসেবে কাজ করি। ‘একুশের চোখ’ নামে একটি অনুসন্ধানী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, গ্রন্থনা এবং উপস্থাপনাও করি তখন। জেমসন মাহবুব ওই অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন করতেন। টেলিফোন বিভাগের এক সাবেক কর্মকর্তার ব্যাপক দুর্নীতির অনুসন্ধান করলেন তিনি। দুর্নীতির কোটি কোটি টাকায় করা সম্পদও তিনি ভিডিও করলেন। কিন্তু সমস্যা হল তিনি আইন অনুযায়ী কালো টাকা সাদা করেছেন। তিনি প্রতিবেদন না করতে হুমকিও দিলেন। আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা বললেন। এখন কী করব? পুরো শ্রম মাটি হয়ে যাবে? অনেক ভেবে পথ বের করলাম। আমাদের প্রতিবেদনে দুর্নীতি বিষয়টি ভিন্নভাবে তুলে ধরলাম। প্রতিবেদন হল ‘কালো টাকায় সাদা সম্পদ’। আর আমরা আইন দিয়ে দেখিয়ে দিলাম কালো টাকা মানে যে টাকার ট্যাক্স দেয়া হয়নি। কিন্তু যে টাকার সোর্স অবৈধ সেটা কালো টাকা নয়। সেটা অবৈধ টাকা। পরে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল।


মুভমেন্টের প্রমাণ রাখুন :
আরেকটি উদাহরণ দিই। আমার জানা আছে যে কারুর বাড়িতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করা যায়না। একটি অনুসন্ধানে একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বাসায় যাই তার বিত্ত বৈভব দেখানোর জন্য। পরে তিনি অনুষ্ঠান প্রচারের আগেই উকিল নোটিশ পাঠান যে তার বাসায় আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছি। কিন্তু আমরা তার বাড়িতে প্রবেশের ফুটেজ রেখেছিলাম। তাতে স্পষ্ট ছিল যে আমরা গেটে নক করার পর তারা গেট খুলে দেন হাসিমুখে। এরপর বাসার ভিতরে নিয়েও প্রথমে হাসিমুখে কথা বলেন। আমরা ওই উকিল নোটিশ পেয়ে একুশের চোখ অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধ রাখিনি। বরং তাদের উকিল নোটিশ দেখিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশের সেই ফুটেজও দেখিয়ে দিই। অনুষ্ঠান প্রচারের পর তাই আর তারা মামলার দিকে যাননি।


নিজের অফিসই হতে পারে বড় বাধা :
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে আপনার অফিসই সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে। সেটা হতে পারে মালিকপক্ষ অথবা আপনারই সহকর্মী কেউ। আপনি হয়তো সেটা জানেন না। তাই অনুসন্ধান করার সময় যতটা সম্ভব গোপনীয়তা রক্ষা করবেন। আপনার সুপারভাইজারকেও আপনার ডকুমেন্টের কপি খুব প্রয়োজন না হলে দেবেন না। আর যদি দিতেই হয় তাহলে কপি রেখে দেবেন। আপনার কপিটি সুরক্ষিত রাখবেন। আর আপনি যদি অনলাইনে যোগাযোগ করেন তাহলে এনক্রাইপ্টেড পদ্ধতিতে করবেন। আপনার মেইল, ফেসবুক-এর কমপক্ষে টু-স্টেপ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। আর আপনার অফিস আপনার মেইল, ফেসবুক নজরদারী করছে কিনা তাও নিশ্চিত হয়ে নিন। মনে রাখবেন আপনি যখন কমন সার্ভারে যুক্ত থাকবেন তখন আপনার অনেক কিছুই উন্মুক্ত। আপনার কম্পিটার আপনি পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখলেও উন্মুক্ত।


চেক-ক্রস চেক:
আপনি যে তথ্য পাবেন তার সত্যতা আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে। তাই তথ্যের সত্যতা যেকোনো উপায়ে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। আপনার যেকোনো ধরণের ডকুমেন্ট তা যদি কপি (ছায়া লিপি) হয় তাহলে মূল ডকুমেন্টের সঙ্গে অবশ্যই মিলিয়ে দেখতে হবে। কারণ এই সময়ে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি খুবই সহজ। আর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হতে ক্রস চেক বা ডাবল চেকের কোনো বিকল্প নেই।


আরো কিছু কথা :
কয়েক বছর আগে আমি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখছিলাম একটি টেলিভিশন চ্যানেলে। সেখানে কিশোরদের মাদকাসক্তি এবং মাদক ব্যবসার ক্যারিয়ার হিসেবে কিভাবে ব্যবহার করা হয় তা দেখানো হচ্ছিল। কিশোরদের সাক্ষাৎকার, তাদের মাদক গ্রহণ, ক্যারিয়ার হিসেবে তাদের তৎপরতা সবকিছু। কিন্তু এই কিশোরদের পরিচয় গোপন করার কোনো পদ্ধতিই প্রয়োগ করা হয়নি। ফলে তারা সমাজে চিহ্নিত হয়ে গেল। তাদের ভবিষ্যত ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো। এটা যে আইন বিরুদ্ধ কাজ শুধু তাই নয়, এটা অমানবিকও।
কক্সবাজারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিহত একরামকে আমরা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকা ধরে। কিন্তু আমরা যদি ওই তালিকা ধরে সত্যিকারের অনুসন্ধান করতাম তাহলে ওই তালিকায়ই হয়তো অনেক ত্রুটি বা উদ্দেশ্যমূলক সংযুক্তি পেতাম। তাই সাধারণ প্রতিবেদন যেখানে শেষ হয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজ সেখান থেকে শুরু হয়।


সন্দেহবাতিক গ্রস্ততা নয় :
অনুসন্ধানি সাংবাদিকতা সাংবাদিকতার সবচেয়ে কঠিন এবং প্রয়োজনীয় শাখা। এটাই রিপোটিং-এর চূড়ান্ত লক্ষ্য। তাই এটা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু কথা বললাম। অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা আরো ভালো বলতে পারবেন।
তবে আবারো বলছি। সন্দেহ পরিবারের বাইরে রাখুন। সন্দেহ যেন সন্দেহ বাতিক গ্রস্ততায় পরিণত না হয়। অনুমান যেন অমূলক না হয়। অনুসন্ধান যেন যথার্থ হয়।


লেখক: বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক

32 thoughts on “অনুসন্ধান এবং অনুমান

  • October 13, 2019 at 10:25 am
    Permalink

    Hi, very nice website, cheers!
    ——————————————————
    Need cheap and reliable hosting? Our shared plans start at $10 for an year and VPS plans for $6/Mo.
    ——————————————————
    Check here: https://www.good-webhosting.com/

  • January 18, 2020 at 9:38 am
    Permalink

    My husband and i have been so delighted John could deal with his studies with the precious recommendations he grabbed using your site. It is now and again perplexing to just continually be giving away thoughts other people could have been selling. Therefore we realize we have got the website owner to thank for this. The illustrations you have made, the easy website navigation, the relationships you aid to foster – it is mostly remarkable, and it is aiding our son and our family know that the matter is interesting, and that is unbelievably serious. Many thanks for the whole thing!

  • January 25, 2020 at 1:17 am
    Permalink

    I really enjoy looking through on this internet site, it has superb content. “The living is a species of the dead and not a very attractive one.” by Friedrich Wilhelm Nietzsche.

  • January 25, 2020 at 6:01 am
    Permalink

    I do agree with all the ideas you’ve presented in your post. They are very convincing and will definitely work. Still, the posts are too short for newbies. May just you please lengthen them a bit from next time? Thanks for the post.

  • January 25, 2020 at 8:18 am
    Permalink

    I am not very superb with English but I get hold this rattling easygoing to read .

  • January 25, 2020 at 1:26 pm
    Permalink

    Some truly interesting info , well written and broadly user genial.

  • January 30, 2020 at 8:34 pm
    Permalink

    I have not checked in here for a while because I thought it was getting boring, but the last several posts are good quality so I guess I?¦ll add you back to my daily bloglist. You deserve it my friend 🙂

  • February 11, 2020 at 1:05 pm
    Permalink

    I do agree with all the ideas you’ve presented in your post. They are really convincing and will certainly work. Still, the posts are too short for newbies. Could you please extend them a bit from next time? Thanks for the post.

  • February 11, 2020 at 9:29 pm
    Permalink

    I like what you guys are up also. Such smart work and reporting! Carry on the excellent works guys I have incorporated you guys to my blogroll. I think it’ll improve the value of my web site :).

  • February 14, 2020 at 6:01 am
    Permalink

    I was examining some of your posts on this internet site and I think this site is rattling informative ! Continue posting.

  • March 4, 2020 at 6:12 pm
    Permalink

    I simply couldn’t leave your website prior to suggesting that I actually enjoyed the standard info an individual provide for your visitors? Is gonna be back ceaselessly in order to inspect new posts

  • March 4, 2020 at 7:47 pm
    Permalink

    Thank you, I have just been searching for info about this subject for ages and yours is the best I’ve discovered so far. But, what about the conclusion? Are you sure about the source?

  • March 4, 2020 at 8:12 pm
    Permalink

    It’s truly a great and useful piece of information. I am satisfied that you shared this helpful information with us. Please stay us informed like this. Thank you for sharing.

  • March 4, 2020 at 11:14 pm
    Permalink

    Hi my loved one! I want to say that this post is amazing, great written and come with almost all significant infos. I’d like to see more posts like this.

  • March 5, 2020 at 1:26 am
    Permalink

    Thank you for the sensible critique. Me & my neighbor were just preparing to do a little research about this. We got a grab a book from our local library but I think I learned more from this post. I am very glad to see such magnificent information being shared freely out there.

  • March 5, 2020 at 2:10 am
    Permalink

    Someone essentially help to make seriously articles I would state. This is the first time I frequented your web page and thus far? I amazed with the research you made to make this particular publish extraordinary. Magnificent job!

  • March 5, 2020 at 6:36 am
    Permalink

    This is really interesting, You’re an excessively professional blogger. I have joined your feed and stay up for searching for extra of your excellent post. Also, I’ve shared your web site in my social networks!

  • March 5, 2020 at 8:20 am
    Permalink

    I know this if off topic but I’m looking into starting my own blog and was curious what all is needed to get set up? I’m assuming having a blog like yours would cost a pretty penny? I’m not very internet savvy so I’m not 100 sure. Any suggestions or advice would be greatly appreciated. Thank you

  • March 5, 2020 at 8:55 am
    Permalink

    I was wondering if you ever considered changing the layout of your blog? Its very well written; I love what youve got to say. But maybe you could a little more in the way of content so people could connect with it better. Youve got an awful lot of text for only having one or two pictures. Maybe you could space it out better?

  • March 5, 2020 at 10:06 am
    Permalink

    Excellent web site. A lot of useful info here. I’m sending it to several friends ans also sharing in delicious. And naturally, thanks in your sweat!

  • March 5, 2020 at 11:30 am
    Permalink

    Write more, thats all I have to say. Literally, it seems as though you relied on the video to make your point. You obviously know what youre talking about, why waste your intelligence on just posting videos to your site when you could be giving us something enlightening to read?

  • March 5, 2020 at 1:07 pm
    Permalink

    Hello! I just wanted to ask if you ever have any trouble with hackers? My last blog (wordpress) was hacked and I ended up losing many months of hard work due to no data backup. Do you have any solutions to protect against hackers?

  • March 5, 2020 at 3:07 pm
    Permalink

    What i do not realize is actually how you’re not actually much more well-preferred than you may be now. You’re so intelligent. You recognize therefore considerably in relation to this matter, made me in my opinion believe it from so many varied angles. Its like women and men don’t seem to be fascinated unless it?¦s something to accomplish with Lady gaga! Your personal stuffs nice. At all times deal with it up!

  • March 5, 2020 at 9:25 pm
    Permalink

    Hey very cool website!! Man .. Excellent .. Amazing .. I will bookmark your web site and take the feeds also…I’m happy to find a lot of useful information here in the post, we need develop more strategies in this regard, thanks for sharing. . . . . .

  • March 6, 2020 at 4:09 am
    Permalink

    I’ve read a few good stuff here. Definitely price bookmarking for revisiting. I wonder how much effort you place to create any such fantastic informative website.

  • March 9, 2020 at 3:25 pm
    Permalink

    you have a great blog here! would you like to make some invite posts on my blog?

Leave a Reply

Your email address will not be published.